রোববার রাতে (২০ মার্চ) ময়নামতি সেনানিবাসের অলিপুর এলাকায় একটি কালভার্টের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তনুর লাশ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের (সম্মান) শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুকে (১৯) ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই কলেজেরই নাট্য সংগঠন ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের (ভিসিটি) সদস্য ছিলেন।

ধর্ষণের আন্দোলন হয়না বাংলাদেশে !!



মঞ্চের ‘আঁধারি আলো’ই মানুষের মনে জ্বালায় মনুষত্বের আলো। সেই আলোয় নিজেকে আলোকিত করতেই চেয়েছিল তনু, সোহাগী জাহান তনু। নাট্যচর্চায় পরিশুদ্ধ মানুষ হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কিছু নরপশুর মনুষত্বের অভাবে চলে যেতে হল দুনিয়া ছেড়েই। তার স্বপ্নের নীল আকাশে আক্রোশের নীল ছেয়ে গেল। সেই উড়ে বেড়ানো পেঁজা তুলার মতো সাদা মেঘগুলো ক্রমেই কালো থেকে কালো হয়ে হারিয়ে গেল নিমিষেই।

গণমাধ্যমে জেনেছি, তনু কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বাসিন্দা ইয়ার হোসেনের মেয়ে। ইয়ার হোসেন ময়নামতি সেনানিবাস এলাকায় অলিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। সেই সুবাদে সোহাগীরা অনেক দিন ধরেই অলিপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সোহাগী মেজো। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে সোহাগী পাড়াশোনার পাশিপাশি বাসার কাছে অলিপুর গ্রামেই এক বাসায় টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আসছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায়, সুহাসিনী তনু। চোখেমুখে একরাশ স্বপ্ন। এমন একটা পবিত্র মুখ, দেখলেই মায়া লাগে। এমন একটা মেয়েকে নরপশুরা খুবলে খেয়ে অর্ধনগ্ন অবস্থায় কালভার্টের পাশে ঝোপঝাড়ে ফেলে রেখেছে। নিজের আশ মেটানোর পর গলাকেটে হত্যা করে গেছে তাকে।

তবে হতাশার মাঝেও আশা জাগে। আজ কজন যুবক রাজধানীর শাহবাগে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংখ্যায় গুটিকয়েক হলেও আওয়াজ ছিল হৃদয়ের। তাই জোরটাও ছিল বেশ। হয়তো কাল থেকে সারাদেশেই প্রতিবাদ জোরালো হবে। নিজেদের দায়মুক্ত করতেই প্রতিবাদটা জানাতে হবে। শাহবাগে সাংবাদিক প্রান্ত পলাশ যেমনটা বলছিলেন, ধর্ষণ এর বিরুদ্ধে সবাইকে যার যার জায়গা থেকে প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং ধর্ষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য সরকারকে বাধ্য করতে হবে।

নারীকে ‘বীরপুরুষরা’ সবসময়ই যৌন মিলনের সঙ্গীই ভেবেছে। কখনো পাশাপাশি চলা মানুষ মনে করেনি। তাই হয়তো কখনো জোর করেই আদায় করতে চেয়েছে তার ‘হক’। সমাজ বিজ্ঞানীরা ধর্ষণের সঠিক প্রভাবক আবিষ্কার করতে না পারলেও, সেডো-ম্যাসকিজমের (Sadomasochism) কথা সবাই কমবেশি স্বীকার করেছেন। অর্থাৎ ভিকটিম কে শারীরিক ও মানসিক ভাবে লাঞ্ছিত করে ইন্দ্রিয় সুখ লাভ। সব মানুষের মধ্যে কিছু পশুত্ব সুপ্ত থাকে এবং মানবিক গুণাবলীর অনুপস্থিতিতে ক্রোধ, হতাশা বা প্রতিশোধ পরায়ণতার কারণে সেই পশুত্বের প্রকাশ ঘটে।

তবে সবচেয়ে বড় কথা, এ প্রবৃত্তি বাড়ছেতো বাড়ছেই। এর বড় কারণই কিন্তু এ প্রবণতাকে লাই দেয়া। বিচারে লঘু দণ্ড বা কোনো মতে রক্ষা পাবার আশা ধর্ষণের মুল প্রণোদনা। অন্তত আমাদের দেশের জন্য।
তনুর ঘটনা নিশ্চয়ই এদেশে প্রথম নয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চার হাজার ৪৩৬ নারী ধর্ষণসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ৯২ নারী। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ৮৪৬ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণ পরবর্তী সময়ে ৬০ জনকে হত্যা করা হয় এবং ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেন ২ জন। যেখানে ২০১৪ সালে ৭০৭ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হন। এর মধ্যে ধর্ষণ পরবর্তী সময়ে ৬৮ জনকে হত্যা করা হয় এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেন ১৩ জন।

এগুলোতো পত্রপত্রিকায় এসেছে এমন ঘটনার তালিকা। যারা এসব সহ্য করে মুখ বুজে থাকেন তাদের হিসাব। এর বাইরের হিসাবটা আরো কত বড় হতে পারে তা অনুমান করা কঠিন। তবে আমার সবচেয়ে আশ্চর্য লেগেছে এটা জেনে যে, ঘটনাটি ঘটেছে এমন এলাকায় যেখানে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সেনা সদস্যরা থাকেন। একটা ক্যান্টনম্যান্ট এলাকার ভেতরে এমন দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটানোর সাহস হয় কার?

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.