চোখে পড়ল তিনটি চখাচখি। এগিয়ে যেতে যেতে এতটা কাছে গেলাম, ওদের উড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কেমন একটা জড়তা। একটি চখা তবু কোনোরকমে উড়তে পারল। অন্য দুটি থেকেই গেল। সন্দেহটা সত্যি হলো। ওরা আর কোনো দিন উড়বে না। শীতের অতিথি হয়ে ওরা এসেছিল এখানে। 



পদ্মার চরে চখাচখি হত্যা করলো শিকারীরা

বেশির ভাগই চলে গেছে। অল্প যে কয়টি আছে, সেগুলোও যাব যাব করছিল। এর মধ্যে এই তিনটির জীবনে নেমে এসেছে দুর্গতি। শিকারির বিষটোপে দুটি প্রাণে মরেছে, পালিয়ে যাওয়া আরেকটির পরিণতিও ভালো নয়।

পরিযায়ী এই পাখিগুলো অনেক সুন্দর। রাজশাহীর পদ্মার চরে এখন এই পাখি নিধন চলছে। কখনো ওরা বিষটোপের শিকার হচ্ছে, আবার কখনো গুলি করে মারা হচ্ছে। গত শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ বার্ডক্লাবের সদস্যরা পদ্মার চরে বিষটোপে মারা যাওয়া এক জোড়া চখাচখি ও একটি গিরিয়া হাঁস উদ্ধার করেন। বন বিভাগের মাধ্যমে মৃত পাখির শরীর সংরক্ষণের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে হস্তান্তর করা হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহীর একজন বন্দুকের দোকানি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে বন্দুক হাতে নিজের ছবিসহ গুলি করে মারা পাঁচটি চখাচখির ছবি পোস্ট করেন। বার্ডক্লাবের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি দাবি করেছেন, আগে পাখি শিকার করতেন, এখন আর করেন না। গুলি করে মারা ওই পাখির ছবি অন্য একজন পোস্ট দিয়েছিলেন। তিনি শুধু শেয়ার করেছেন।

চখাচখির দিকে তাকালে চোখ ফেরানো যায় না। বাংলাদেশে দুই প্রজাতির চখাচখির দেখা মেলে। এরা হলো খয়রা ও পাতি। খয়রার ইংরেজি নাম ‘Ruddy Shelduck’। সারা গা প্রায় কমলা রঙের। পুরুষের গলায় একটা কালো রেখা আছে। ওড়ার সময় পাখার কালো, সাদা, কমলা ও নীলচে রং দেখা যায়। এদের দৈর্ঘ্য ৬৪ সেন্টিমিটার। ওজন দেড় কেজি। ডানা ৩৬ সেন্টিমিটার। ঠোঁট ৪ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার। পা ছয় ও লেজ ১৪ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। শীতের শুরুতে এরা তিব্বত থেকে হিমালয় পার হয়ে বাংলাদেশে আসে। মে-জুন মাসে তিব্বতে ওদের প্রজননকাল শুরু হয়। তার আগেই ওরা আবার চলে যায়।

গতকাল শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ বার্ডক্লাবের সহসভাপতি তারেক অণু, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচারের (আইইউসিএন) কর্মকর্তা তারিক কবির, রাজশাহী বার্ডক্লাবের সদস্য হাসনাত রনি, তাজমুল হোসেন, তামজিদ আলম ও এই প্রতিবেদক একটি নৌকা নিয়ে পদ্মার চরে পাখিদের দেখতে বের হন। সকাল সাতটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৫০টি চখাচখির দেখা মেলে। গত বছর ১ মার্চ এই নদীতে প্রায় দেড় হাজার চখাচখি দেখা গিয়েছিল।

গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী নগরের শ্রীরামপুর থেকে সোজা দক্ষিণে চর মাঝারদিয়াড় ও চরখিদিরপুরের মাঝামাঝি এলাকায় বিষটোপের শিকার এই পাখি তিনটি পাওয়া যায়। এর আধা ঘণ্টা আগে ওই দিক দিয়ে চর মাঝারদিয়াড় যাওয়ার সময় কোনো পাখি দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আধা ঘণ্টার মধ্যেই কোনো বিষটোপ খেয়ে পাখি তিনটি মারা গেছে। ওদের মধ্য থেকে যে পাখিটি উড়ে গেল, তার অবস্থাও টালমাটাল মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল উড়তে উড়তে কোথাও পড়ে যাবে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, কী কারণে পাখিগুলো মারা গেল বা কারা মারল, তা অনুসন্ধানে বন বিভাগের একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, পদ্মা নদীর চরে পাখি শিকার প্রতিরোধে তাঁরা বেশ তৎপর। স্থানীয় লোকজন নিয়ে বৈঠক করে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করেছেন। স্থানীয় লোকজনকে বন বিভাগ এবং আইইউসিএনের মুঠোফোন নম্বরও দিয়ে এসেছেন। কোনো শিকারিকে দেখলেই তাঁরা যেন ফোন করে জানাতে পারেন।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.